রোযার ফজিলত (সহজ ভাষায়)

KDRAMAPLAY

 



রোযা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। রোযা পালনের মাধ্যমে আল্লাহর অশেষ রহমত ও  পুরস্কার লাভ করা যায়। 

কিছু হাদিসে রোযার ফজিলত বর্ণনা করা হয়েছে:

১। আল্লাহর জন্য রোযা: 

হযরত আবু হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূল (ﷺ) বলেছেন, আল্লাহ তাআলা বলেন, “আদম সন্তানের প্রত্যেক আমল তার নিজের জন্য, কিন্তু রোযা আলাদা। রোযা আমার জন্য এবং এর প্রতিদান আমি নিজেই দেব।” রোযা পালনকারী যেন ঢাল ধারণ করে, যা তাকে গুনাহ থেকে রক্ষা করে। তাই রোযার দিন অশ্লীলতা ও ঝগড়া পরিহার করতে হবে। কেউ যদি গালাগালি করে বা ঝগড়া করতে চায়, তাহলে তাকে বলতে হবে, “আমি রোযা আছি”। রোযাদারের মুখের গন্ধ আল্লাহর কাছে কস্তুরীর চেয়েও সুগন্ধময়। রোযাদার দুটি আনন্দের স্বাদ গ্রহণ করে: ইফতারের সময় এবং কিয়ামতের দিন আল্লাহর সাক্ষাতে। 

২। গুনাহের কাফফারা:

হযরত হুযাইফা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূল (ﷺ) বলেছেন, “ধন-সম্পদ এবং প্রতিবেশীর ব্যাপারে মানুষ যেসব গুনাহ করে, নামায, রোযা ও সদকা  সেইসব গুনাহের কাফফারা  স্বরূপ।”
৩। জান্নাতের দরজা 'রাইয়ান':

হযরত সাহল বিন সা'দ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী (ﷺ) বলেছেন, জান্নাতে একটি দরজা আছে যার নাম 'রাইয়ান'। কেয়ামতের দিন শুধুমাত্র রোযাদাররাই এই দরজা দিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করবে। যখন সকল রোযাদার জান্নাতে প্রবেশ করবে, তখন এই দরজা বন্ধ করে দেওয়া হবে। 

৪. জাহান্নাম থেকে রক্ষাকারী:**

হযরত আবু হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সাঃ) বলেছেন, "রোযা জাহান্নাম থেকে রক্ষার জন্য ঢাল এবং দুর্ভেদ্য দুর্গের মতো।"

৫. রোযা ও কুরআনের সুপারিশ:

হযরত আব্দুল্লাহ বিন আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সাঃ) বলেছেন, "কিয়ামতের দিন রোযা এবং কুরআন বান্দার জন্য সুপারিশ করবে। রোযা বলবে, 'হে আমার প্রতিপালক! আমি তাকে খাওয়া-দাওয়া এবং যৌনকর্ম থেকে বিরত রেখেছিলাম। তাই তার জন্য আমার সুপারিশ কবুল কর।' আর কুরআন বলবে, 'আমি তাকে রাতে ঘুম থেকে বিরত রেখেছিলাম। তাই তার জন্য আমার সুপারিশ কবুল কর।'" রাসূল (সাঃ) বলেন, "তাদের উভয়ের সুপারিশই কবুল করা হবে।"

রোযা একটি মহান ইবাদত। রোযা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তির উপায়। তাই আমাদের সকলকে আন্তরিকতার সাথে রোযা পালন করা উচিত।