যে সকল কারনে রোজা নষ্ট হয়

KDRAMAPLAY



যে সব কারণে রোযা নষ্ট হয় তা দুই শ্রেণীর প্রথম শ্রেণীর কারণ রোযা নষ্ট করে এবং তাতে কাযা ওয়াজেব হয় আর দ্বিতীয় শ্রেণীর কারণ রোযা নষ্ট করে এবং তার সাথে কাফফারাও ওয়াজেব করে যে কারণে রোযা নষ্ট হয় এবং কার সাথে কাফফারাও ওয়াজেব হয়; তা হলঃ

স্ত্রী-সঙ্গমঃ রোযা অবস্থায় যখনই রোযাদার স্ত্রী-মিলন করবে, তখনই তার রোযা নষ্ট হয়ে যাবে সুতরাং মিলন যদি রমযানের দিনে সংঘটিত হয় এবং রোযা রোযাদারের জন্য ফরয হয়, (অর্থাৎ রোযা কাযা করা তার জন্য বৈধ না হয়) তাহলে মিলনের ফলে যথাক্রমে ৫টি জিনিস সংঘটিত হবে :() কাবীরা গােনাহ; আর তার ফলে তাকে তওবা করতে হবে () তার রোযা বাতিল হয়ে যাবে () তাকে দিনের অবশিষ্ট অংশ পানাহার ইত্যাদি থেকে বিরত থাকতে হবে () দিনের রোযা (রম্যান পর) কাযা করতে হবে () বৃহৎ কাফফারা আদায় করতে হবে আর তা হল, একটি ক্রীতদাসকে দাসত্ব থেকে মুক্তি দিতে হবে তাতে সক্ষম না হলে, লাগাতার (একটানা) দুই মাস রোযা রাখতে হবে 

আর তাতে সক্ষম না হলে, ৬০ জন মিসকীনকে খাদ্যদান করতে হবে | যে মহিলার উপর রোযা ফরয, সেই মহিলা সম্মত হয়ে রমযানের দিনে স্বামী-সঙ্গম করলে তারও উপর কাফফারা ওয়াজেব অবশ্য তার ইচ্ছা না থাকা সত্ত্বেও স্বামী যদি তার সাথে জোরপূর্বক সহবাস করতে চায়, তাহলে তার জন্য যথাসাধ্য তা প্রতিহত করা জরুরী রুখতে না পারলে তার উপর কাফফারা ওয়াজেব নয় 

এই জন্যই যে মহিলা জানে যে, তার স্বামীর কামশক্তি বেশী; সে তার কাছে প্রেম-হাদয়ে কাছাকাছি হলে নিজের যৌন-পিপাসা দমন রাখতে পারে না, সেই মহিলার জন্য উচিত, রমযানের দিনে তার কাছ থেকে দূরে থাকা এবং প্রসাধন সাজ-সজ্জা না করা তদনুরূপ স্বামীর জন্যও উচিত, পদস্থলনের জায়গা থেকে দূরে থাকা এবং রোযা থাকা অবস্থায় স্ত্রীর কাছ না ঘেঁষা; যদি আশঙ্কা হয় | যে, উগ্র যৌন-কামনায় সে তার মনকে কাবু রাখতে পারবে না কারণ, কথা বিদিত যে, প্রত্যেক নিষিদ্ধ জিনিসই ঈপ্সিত (দঃ মুমঃ /৪১৫, ৭০ঃ ৭০নং, ফারারাঃ ৬১পৃঃ)
যে জিনিসে রোযা নষ্ট করে এবং কেবল কাযা ওয়াজেব করে তা নিম্নরূপঃ

বীর্যপাতঃ  রোযা নষ্টকারী কর্মাবলীর মধ্যে জাগ্রত অবস্থায় সকাম যৌন-স্বাদ | অনুভূতির সাথে বীর্যপাত অন্যতম; চাহে সে বীর্যপাত (নিজ অথবা স্ত্রীর) হস্তমৈথুন দ্বারা হোক অথবা কোলাকুলি দ্বারা, নচেৎ চুম্বন অথবা প্রচাপন দ্বারা। কারণ, উক্ত প্রকার সকল কইি হল এক এক শ্রেণীর যৌনাচার। অথচ মহান আল্লাহ (হাদীসে কুদসীতে) বলেন, “সে আমার (সন্তুষ্টি লাভের) আশায় নিজের প্রয়োজনীয় পানাহার ও যৌনাচার পরিহার করে। (কু ১৮৯৪, মুঃ ১১৫ ১নং) আর যে ব্যক্তি যে কোন প্রকারে নিজ যৌন অনুভূতিকে উত্তেজিত করে। তৃপ্তির সাথে বীর্যপাত করে, সে আসলেই নিজের যৌন-কামনা চরিতার্থ করে থাকে এবং তার রোযাতে সেই কর্ম বর্জন করে না, যা আল্লাহর উক্ত বাণীতে পানাহারের অনুরূপ। (মুমঃ ৬/৩৮৭)

পরন্তু রোযাদারের জেনে রাখা উচিত যে, হস্ত অথবা অন্য কিছু দ্বারা বীর্যপাত ঘটানো যেমন রোযার মাসে হারাম, তেমনি অন্য মাসেও। কিন্তু রমযানে তা অধিকরূপে হারাম। যেহেতু এ মাসের। রয়েছে পৃথক মর্যাদা এবং তাতে হয়েছে রোযা ফরয। (ফারারাঃ ৬১পৃঃ) ৩। পানাহারঃ পানাহার বলতে পেটের মধ্যে যে কোন প্রকারে কোন খাদ্য অথবা পানীয় পৌছানোকে বুঝানো হয়েছে, চাহে তা মুখ দিয়ে হোক অথবা নাক দিয়ে, পানাহারের বস্তু যেমনই হাোক; উপকারী বা উপাদেয় হোক অথবা অপকারী বা অনুপাদেয়, হালাল হোক অথবা হারাম, অল্প হোক অথবা বেশী।
বলা বাহুল্য, (বিড়ি, সিগারেট, গাঁজা প্রভৃতির) ধূমপান রোযা নষ্ট করে দেয়; যদিও তা অপকারী, অনুপাদেয় ও হারাম পানীয়।

প্লাস্টিক বা কোন ধাতুর মালা গিলে ফেললে রোযা নষ্ট হয়ে যাবে; যদিও তা পেটে গেলে দেহের কোন উপকার সাধন হবে না। তদনরূপ যদি কেউ কোন অপবিত্র বা হারাম বস্তু ভক্ষণ করে, তাহলে তারও রোযা নষ্ট হয়ে যাবে। (দ্রঃ মুমঃ ৬/৩৭৯, ৪৮ঃ ১৪পৃঃ)

৪। যা এক অর্থে পানাহার ঃ স্বাভাবিক পানাহারের পথ ছাড়া অন্য ভাবে পানাহারের কাজ নিলে তাতেও রোযা নষ্ট হয়ে যাবে। যেমন খাবারের কাজ দেয় এমন (স্যালাইন ইঞ্জেকশন) নিলে রোযা হবে না। কেননা, তাতে। পানাহারের অর্থ বিদ্যমান।
৫। ইচ্ছাকৃত বমি করাঃ। ইচ্ছাকৃত বমি করলে, অর্থাৎ পেটে থেকে খাওয়া খাদ্য (বমন ও উদগিরণ করে) বের করে দিলে, মুখে আঙ্গুল ভরে, পেট নিঙরে, কোন বিকট দুর্গন্ধ জাতীয় কিছুর ঘ্রাণ নাকে নিয়ে, অথবা অরুচিকর ঘূণ্য কিছু দেখে উলটি করলে রোযা নষ্ট হয়ে যাবে। সে ক্ষেত্রে ঐ রোযার কাযা জরুরী। (দ্রঃ মুমঃ ৬/৩৮৫, ৭০৪ ৫৩নং) পক্ষান্তরে সামলাতে না পেরে অনিচ্ছাকৃতভাবে বমি হয়ে গেলে রোযা নষ্ট হয়। 

যেহেতু মহানবী ও বলেন, “রোযা অবস্থায় যে ব্যক্তি বমনকে দমন করতে সক্ষম হয় না, তার জন্য কাযা নেই। পক্ষান্তরে যে ইচ্ছাকৃতভাবে বমি করে, সে যেন ঐ রোযা কাযা করে। (আঃ | ২/৪৯৮, আদাঃ ২৩৮০, তিঃ ৭১৬, ইমা ১৬৭৬, দাঃ ১৬৮০, ইখুঃ ১৯৬০, ইহিঃ মাওয়ারিদ ৯০৭নং, হাঃ ১/৪২৭, দারা, বাঃ ৪/২১৯ প্রমুখ, ইগঃ ৯৩০, সজাঃ ৬২ ৪৩নং)

মহিলার মাসিক অথবা নিফাস শুরু হওয়াঃ মহিলার মাসিক অথবা নিফাসের খুন বের হতে শুরু হলে তার রোযা নষ্ট হয়ে যায় যদি সূর্য অস্ত যাওয়ার সামান্য ক্ষণ পূর্বে খুন দেখা দেয়, তাহলে তার দিনের রোযা বাতিল এবং সূর্য অস্ত যাওয়ার সামান্য ক্ষণ পরে দেখা দিলে তার দিনের রোযা শুদ্ধ (৪৮ ১৫পৃঃ)

বেহুশ হওয়ার রোযাদার যদি ফজর থেকে নিয়ে মাগরেব পর্যন্ত বেহুশ থাকে, তাহলে তার রোযা শুদ্ধ হবে না এবং তাকে দিনের রোযা কাযা রাখতে হবে